| রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | 177 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি ২০৫ কোটি ডলার রফতানি আয়ের সুযোগ
ভারত ও চীনের ওপরে ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্কের হার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ২০৫ কোটি ডলার অতিরিক্ত রফতানি আয় করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আয়োজনে গতকাল সংস্থাটির মিলনায়তনে ‘সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতায় তিনি এ আশাবাদের কথা জানান।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারত ও চীনের ওপরে ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে, তাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ২০৫ কোটি ডলার বেশি পণ্য রফতানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
ভারতের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ৫০ শতাংশ, আর চীনের ওপর ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ২০ শতাংশ। এ তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে অনুমান করা হয়েছিল যে বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ২২ শতাংশ ভারতে চলে যেতে পারে। পরে শুল্কহারের কারণে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ভারত সরকারের এক হিসাব অনুযায়ী, নতুন শুল্কহারের কারণে প্রায় ৪ হাজার ৮২০ কোটি ডলারের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশটির।’
‘অন্তর্বর্তী সরকারের কেবিনেট (উপদেষ্টা পরিষদ) বেচারা ও দিশেহারা’ বলেও সমালোচনা করেছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের কেবিনেট আন্তরিক, কিছু ক্ষেত্রে সাহসী, আবার বেচারা ও দিশেহারা। বর্তমানে যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো দেখেই আমি সরকারকে বেচারা ও দিশেহারা বলছি।’
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘খেলোয়াড় বদল হয়েছে, কিন্তু একই খেলা হচ্ছে। দেশের সর্বত্রই চাঁদাবাজি হচ্ছে। খেলা বদলানোর সংস্কার হয়েছে। কিন্তু গেম চেঞ্জিং সংস্কার হয়নি। সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। তবে তার সঙ্গে আরো চার শ্রেণীর সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। সেগুলো হলো কেবিনেট, প্রশাসন বা আমলা, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ। এ চার শ্রেণী যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে সংস্কার হবেই।’
সভায় বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মচাঞ্চল্য ও জনকল্যাণের বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সব জায়গায় দুর্নীতি হয়েছে। সেই করুণ অবস্থা থেকে গত এক বছরে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরেছে। অর্থ পাচার ও ব্যাংকের লোপাট কমেছে। ডলারের মূল্য কমেছে, বাংলাদেশের জন্য অনুকূলে এসেছে।’
ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
Posted ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam